ঢাকা,শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

৩ বৈশাখ ১৪৩৩

খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯:৫৯, ৩ মার্চ ২০২৬

খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বন্ধ করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের সব ধরনের খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রপ্তানি বন্ধ থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞা ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে। সরকারের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ। পাশাপাশি খাদ্য রপ্তানিতেও দেশটির শক্ত অবস্থান রয়েছে। প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পেস্তা, জাফরান, খেজুর, কিশমিশ, বাদাম, আখরোটসহ বিভিন্ন শুকনো ফল। এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান-এ তাজা ফল, সবজি ও দুগ্ধজাত পণ্য পাঠানো হয়।

গত কয়েক বছরে ইরানের কৃষি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে চিত্র বদলে গেছে। হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকার খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। রপ্তানি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট দেখা দিতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত। এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের সময়ে খাদ্য নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আগে নিজেদের নাগরিকদের প্রয়োজন নিশ্চিত করতে চাই।

এর আগে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও এবার সব খাদ্যপণ্যের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়তে পারে। জাফরানের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, পেস্তা ও খেজুরের সরবরাহ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ওপর নির্ভরশীল প্রতিবেশী দেশগুলোতে খাদ্যসংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে যুদ্ধের চাপে ইরানের অর্থনীতিও চাপে পড়েছে। রপ্তানি থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তেহরানের এক ব্যবসায়ী বলেন, “দাম বাড়ছে, তবে অন্তত বাজারে পণ্য থাকবে। যুদ্ধের সময়ে রপ্তানি চালু থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।”

তবে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, রপ্তানি বন্ধ থাকলে তাদের আয় কমে যাবে। সরকার বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। তবে যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

এ সম্পর্কিত খবর