আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮:৫৮, ২ নভেম্বর ২০২৫
ছবি: সংগৃহীত
সীমান্তে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করা এবং পিছিয়ে পড়া সীমান্ত সম্প্রদায়গুলোর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য ও অবকাঠামো সংযোগ বাড়াতে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন।
শনিবার (১ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি-মঘদ্দামের সঙ্গে বৈঠকে মন্ত্রী এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন। বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা বাণিজ্য সম্প্রসারণ, যোগাযোগ উন্নয়ন এবং বিদ্যমান সহযোগিতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রী বালুচিস্তান মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগ্টি এবং জাহেদানের গভর্নরের মতো উচ্চ পর্যায়ের সরকারি পর্যায়ের সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। এছাড়াও, পাকিস্তানি মন্ত্রণালয়গুলোর—যেমন সামুদ্রিক, রেলওয়ে এবং যোগাযোগ—দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের তেহরানে পাঠিয়ে খাতভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ অন্বেষণ করার পরামর্শ দেন।
রাষ্ট্রদূত আমিরি-মঘদ্দাম বাণিজ্য সংক্রান্ত অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং পূর্বে চুক্তিভুক্ত ৪ লাখ টন চাল, ৩ লাখ টন মাংস, ২ লাখ টন ভুট্টা ও ৫০ হাজার টন পশুখাদ্য আমদানির প্রসঙ্গ স্মরণ করান। তিনি জানান, ‘ইরান ইতিমধ্যেই চাল আমদানি সম্পন্ন করেছে এবং এখন পশুখাদ্য ও ভুট্টা কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী সম্প্রতি পাকিস্তানের বারটার ট্রেড মেকানিজমে করা সংশোধনী গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে।
পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী জানান, ‘পাকিস্তান-ইরান ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA)-এর খসড়া, যা পূর্বে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এখন অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ইরানি রাষ্ট্রদূত এ সংবাদকে স্বাগত জানান এবং কোয়েটা-জাহেদান রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার মাধ্যমে মানুষ এবং বাণিজ্যের সংযোগ বৃদ্ধি পাওয়া সম্পর্কে মন্তব্য করেন।’
বৈঠকে চলমান উদ্যোগ, বাণিজ্য চুক্তি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগসমূহও পর্যালোচনা করা হয়।
মন্ত্রী ইরানি কোম্পানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে ২৫ থেকে ২৭ নভেম্বর কারাচি এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া FoodAg Exhibition 2025-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী দুই দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষি ও খাদ্য খাতে বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ দেশীয় স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতায় পাকিস্তানে প্রবেশকারী ইরানি পরিবহন সংক্রান্ত কার্যক্রমের সমস্যাগুলো সমাধান করা হচ্ছে।’
তিনি পাকিস্তান-ইরান যৌথ ব্যবসায়ী কাউন্সিল পুনরায় সক্রিয় করার আহ্বান জানান, যা ব্যবসা-থেকে-ব্যবসায়ী সংযোগ এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে।
সীমান্ত বাণিজ্য সহজতায় অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী ৩০ জুলাই পুনরায় চালু হওয়া মান্ড-পিশিন যৌথ সীমান্ত বাজারের প্রশংসা করেন এবং চেগদি-কুহাক ও গাবদ-রিমদান স্থলাভিষিক্ত বাজার দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ সংস্থা এবং উভয় দেশের কোয়ারেন্টিন সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে অ-শুল্ক প্রতিবন্ধকতা কমাতে হবে, যা কৃষি পণ্য সীমান্ত অতিক্রম দ্রুততর করবে।’
পাকিস্তানের বানিজ্য মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংলাপ স্থায়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে, এবং দুই দেশ বাণিজ্য, লজিস্টিক ও আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় পক্ষই লাভবান হবে।