আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২:৫০, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে মেঘালয় রাজ্য পুলিশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা মেঘালয়ে পালিয়ে গেছেন- বাংলাদেশ পুলিশের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
মেঘালয় পুলিশের মহাপরিদর্শক (ডিজিপি) ইদাশিশা নংরাং ‘মেঘালয় মনিটর’-কে বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। একইসঙ্গে বিএসএফের মেঘালয় ফ্রন্টিয়ারের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) ওপি উপাধ্যায় জানান, হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে সন্দেহভাজনদের ভারতে প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে বিএসএফ অবগত নয়।
হিন্দুস্তান টাইমসকে মেঘালয় পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখিত পুত্তি বা সামী নামে কাউকে গারো পাহাড় এলাকায় শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ওরফে দাউদ খানের দুই সহযোগী পুত্তি ও তার স্বামীকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ তথ্য জানা গেছে এবং সন্দেহ করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দি অনুযায়ী ঘটনার পর ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকার আমিনবাজার হয়ে মানিকগঞ্জের কালামপুরে যান। সেখান থেকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একটি প্রাইভেটকারে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছান এবং পরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে যান।
তবে বাংলাদেশ পুলিশের এসব দাবির সঙ্গে একমত নয় মেঘালয় পুলিশ ও বিএসএফ। তারা জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই এ তথ্য প্রচার করা হয়েছে। যদিও উভয় সংস্থাই বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদারের কথা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলযোগে এসে গুলি চালানো হলে গুরুতর আহত হন শরিফ ওসমান বিন হাদি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টার মামলা হলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে মামলায় হত্যা ধারা সংযোজন করা হয়।
সূত্র: এডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, মেঘালয় মনিটর