ঢাকা, সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

৬ মাঘ ১৪৩২

‘থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:৪৩, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

‘থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে আহত করার ঘটনার পরদিন ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি ‘সব থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ’ থেকে অভিবাসন সাময়িকভাবে স্থগিত করবেন। গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি একজন আফগান নাগরিক।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তার সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে বলেন, ‘সব থার্ড ওয়ার্ল্ড দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত রাখব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং আগের প্রশাসনের অবৈধভাবে প্রবেশ করা লাখো অভিবাসীকে অপসারণ করা যায়।’

যদিও তিনি ‘থার্ড ওয়ার্ল্ড’ শব্দটির সংজ্ঞা দেননি, সাধারণত এটি গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘নেট সম্পদ নয়’ কিংবা ‘দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম’— এমন ব্যক্তিদের দেশ থেকে অপসারণ করা হবে। তিনি ঘোষণা দেন যে, অ-নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ফেডারেল সুবিধা ও ভর্তুকি বন্ধ হবে এবং যারা ‘দেশের শান্তি ব্যাহত করে’ এমন প্রাকৃতিককরণ পাওয়া অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।’

এর আগে, বৃহস্পতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের পরিচালক জোসেফ এডলো জানান যে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে তিনি “উদ্বেগজনক দেশগুলো” থেকে আগত সব গ্রিন কার্ড আবেদন পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এডলো বলেন, ‘আমেরিকান জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।’

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুনের এক প্রেসিডেন্সিয়াল ঘোষণায় আফগানিস্তান, হাইতি, ইরান, মিয়ানমার, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেনসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর মধ্যেই আফগান নাগরিকদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

ওদিকে, ওয়াশিংটন ডিসির জেলা অ্যাটর্নি জিনিন পিরো জানান, ‘সন্দেহভাজন হামলাকারী রহমানউল্লাহ লাখানওয়াল (২৯) আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতেন। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ত্যাগের পর তিনি ‘অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকাম’ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তার অভিবাসন ইতিহাস ও ভেটিং প্রক্রিয়া এখন এফবিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুনরায় যাচাই করছে।’

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে অভিবাসন নীতিতে ব্যাপক কঠোরতা আরোপ করেছে। চলতি বছরের অক্টোবরেই ঘোষণা দেওয়া হয় যে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ৭,৫০০ শরণার্থী গ্রহণ করবে— যা ১৯৮০ সালের পর সর্বনিম্ন।

এছাড়া, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় দুই লাখ শরণার্থীর আবেদন নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাইডেন আমলে আসা শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনও স্থগিত রাখা হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠিন ও সীমিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত খবর