ঢাকা,শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

৩ বৈশাখ ১৪৩৩

নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা?

সাইয়্যেদা গালিবা রুহী, বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১:৪৩, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন নিয়ে কি ভাবছেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা?

ছবি: ডেইলি দর্পণ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলেই গঠন হবে বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার। বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক আকাঙ্খা তরুণদের মধ্যে। এ নিয়ে উদ্দিপনা দেখা গেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীদের মধ্যে। নির্বাচন নিয়ে তারা কি ভাবছে সেই ভাবনা তুলে ধরা হল।

নির্বাচন ও একজন খাদ্য প্রকৌশল শিক্ষার্থীর ভাবনা

আমি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। আমার পড়াশোনা ও চিন্তার কেন্দ্রে রয়েছে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ। সে কারণেই সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে আমি শুধু রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে নয়, বরং দেশের খাদ্যব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখি।

এই অগ্রগতি নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি ও দায়িত্বশীল নীতিনির্ধারণের ওপর, যা আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাত ধরেই। তাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথকে আরও সুদৃঢ় করে।

বাংলাদেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাদের জীবনমান উন্নয়ন, অপচয় কমানো, আধুনিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা অপরিহার্য।

আমি বিশ্বাস করি, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা জোরদার করতে। নিজের মত প্রকাশের অধিকার চায়, ভোটাধিকার চায় এবং নিজের ও পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা চায়। এসব মৌলিক অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিতে নির্বাচিত সরকার সবসময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে আশাবাদী। একই সঙ্গে প্রত্যাশা করি, বিরোধী দল গঠনমূলক ও যৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরবে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করবে।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন দেশের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও কল্যাণ বয়ে আনুক এই কামনাই করি।

মো. শাদমান সাকিব নির্ঝর
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

তারুণ্যের প্রত্যাশার রাষ্ট্র, আগামীর বাংলাদেশ

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে মানুষের মর্যাদা থাকবে সবার আগে, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে ভয়মুক্তভাবে। একটি সুস্থ রাষ্ট্রের জন্য ভিন্নমতের সহাবস্থান অপরিহার্য এবং এটিকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমাদের এই তরুণ সমাজ এই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। অথচ বহু ক্ষেত্রে আমাদের কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত করা হয়েছে বিগত সময়গুলোতে। আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে তরুণদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও প্রশ্ন করার সাহসকে দমন নয়, বরং উৎসাহিত করা হবে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও আমাদের প্রত্যাশা স্পষ্ট। আমরা এমন নেতৃত্ব চাই, যারা শাসক নয়—সেবক হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন। যারা মানুষের কথা শুনবেন, সমস্যাকে অস্বীকার করবেন না এবং সমাধানের পথে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন। নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতি নয়, ধারাবাহিক দায়িত্ববোধই হোক নেতৃত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

মো. জোবায়ের হোসেন জীম
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন

বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আমার প্রজন্মের প্রত্যাশা খুব বড় কিছু নয়—আমরা চাই স্বাভাবিক, নিরাপদ আর বিশ্বাসযোগ্য একটি নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বা সহিংসতা রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

‎দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ জনগোষ্ঠীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নীতিনির্ধারণে তাদের উদ্বেগ ও বাস্তব সমস্যাগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো যেন নির্বাচনী আলোচনায় বাস্তব গুরুত্ব পায়—এটাই প্রত্যাশা।

‎এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা সম্ভব হবে।

‎সার্বিকভাবে, এই নির্বাচন থেকে দেশের জন্য প্রত্যাশা খুব মৌলিক। একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক, যারা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক লাভের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে।

নুশরাত জাহান মুমু
কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমার ভাবনা 

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এটি কেবল একটি সরকারের পরিবর্তন নয়।এটি জনগণের মতামত, অধিকার ও আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। আমি আশা করি, এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ যেখানে প্রতিটি নাগরিক ভয়ভীতি ও প্রভাবমুক্তভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে। 

আমি এমন একটি সরকার আশা করি, যারা ক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখবে, অধিকার হিসেবে নয়। যে সরকার জনগণের কথা শুনবে, মতের ভিন্নতাকে সম্মান করবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে সরকার কাজ করবে, দুর্নীতি দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে এবং তরুণ সমাজকে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করবে সেই সরকারই আমার প্রত্যাশা। জনগণের কল্যাণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হবে যার মূল নীতি।

মোছা: তাহমিনা আক্তার ইমা
পশুপালন অনুষদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়