মো. রাসেল হোসাইন
প্রকাশ: ২৩:২৩, ১৩ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ডেইলি দর্পণ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার নতুন কমিটিও যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিটের নতুন নেতৃত্ব নিয়েও চলছে নানা আলোচনা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকায় শেষ মুহূর্তে কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে কৌতূহল।
বর্তমান ঢাবি ছাত্রদলের কমিটি ২০২৪ সালের মার্চে, গণেশ চন্দ্র রায় সাহসকে সভাপতি ও নাহিদুজ্জামান শিপনকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য গঠন করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কারণে তা পিছিয়ে যায়।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। এ খবরে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। পদপ্রত্যাশী নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ নেতাকর্মীরাও নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য তালিকায় ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ সেশনের নেতাদের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে।
আলোচনায় যারা
২০১৩-১৪ সেশন থেকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম খান।
২০১৪-১৫ সেশন থেকে আলোচনায় রয়েছেন ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম কাউসার, সাইফ খান ও ফেরদৌস আলম।
এ ছাড়া ২০১৫-১৬ সেশন থেকেও কয়েকজন নেতা সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, বজলুর রহমান বিজয় এবং ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী।
অন্যদিকে ২০১৬-১৭ সেশন থেকে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু হায়াত মো. জুলফিকার জেসান, প্রচার সম্পাদক তানভীর হাসান ও শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে।
২০১৭-১৮ সেশন থেকে আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক ও সাইফুল্লাহ সাইফের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়াও ২০১৮-১৯ সেশন থেকে ঢাবির কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম, বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদ ও ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক আবরার হামীম আপনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা
পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কমিটির জসিম খান ডেইলি দর্পণকে বলেন, রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্ব, যারা একদিকে রাজপথে নেতৃত্ব দিতে পারবে, অন্যদিকে আধুনিক চিন্তাধারার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থায় নিতে পারবে, তাদেরই নেতৃত্বে আসা উচিত।
তিনি বলেন, বিগত দিনের জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করাটা রাজনৈতিক ন্যায়বিচারেরই নামান্তর। যোগ্যদের নেতৃত্বে আনলে তৃণমূলের আস্থা বাড়ে। আর আগামী দিনের নেতৃত্ব তারেক রহমান যোগ্য ও পরীক্ষিতদের হাতেই তুলে দেবেন- এ বিষয়ে নিশ্চিত থাকতে পারেন, ইনশাআল্লাহ।
পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ডেইলি দর্পণকে বলেন, কমিটির ক্ষেত্রে বিগত দিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো সাংগঠনিক যোগ্যতাসম্পন্ন নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি যেকোনো বৈরী পরিবেশে অন্যান্য সংগঠনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ছাত্রদলকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মাঝে জনপ্রিয় করে তোলার মতো যোগ্যতা, মেধা ও কর্মদক্ষতাকেও নতুন নেতৃত্বের অন্যতম মানদণ্ড করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাকে বর্তমান ছাত্ররাজনীতির মূল জায়গায় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দর্শন, ছাত্ররাজনীতিতে আমাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত পাঠচক্র, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিন্তার খোরাক ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা ও বিতর্কের মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে নতুন নেতৃত্বকে ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি তখনই প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে, যখন শিক্ষার্থীরা রাজনীতিকে সমস্যা হিসেবে নয়, বরং নিজেদের সমস্যা সমাধানের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করবে। ভয়ের সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে তাদের কথা নিয়মিত শোনা এবং নতুন নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেলবন্ধনের সেতু তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আবাসন, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পরিবেশ ও একাডেমিক ক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কার্যকর নেতৃত্ব দিতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আগামী কমিটির নতুন নেতৃবৃন্দকে।
ঢাবির কবি জসীম উদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম ডেইলি দর্পণকে বলেন, ঢাবি শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা- যাদের ৫ আগস্টের পূর্বের আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাদেরকেই নতুন কমিটিতে দেখতে চাই।
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, এবারের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী ও বিতর্কমুক্ত নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে।