ফারুক হোসেন
প্রকাশ: ২১:৫৮, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবি- সংগৃহীত
চাঁদপুর মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। ওইসব স্কুলে মূলত গরিব পরিবার– দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, এতিম ও অসহায় পরিবারের শিশুরাই ভর্তি হচ্ছে। অধিকাংশ অভিভাবকের ঝোঁক এখন বেসরকারি (কেজি) স্কুলের দিকে।
উপজেলা প্রাথমিক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মতলব উত্তর উপজেলায় ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক স্কুল এবং নিবন্ধিত ৭১টি, অনিবন্ধিত ৩৬ কেজি স্কুল রয়েছে। মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক স্কুল এবং নিবন্ধিত ৪৫টি, অনিবন্ধিত ২৫ কেজি স্কুল রয়েছে। এছাড়াও মতলব দুই উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে শতাধিক মাদ্রাসা।
জানা যায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কম খরচের পাশাপাশি নানা সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কেজি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।
সরকারি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল বাতেন জানান, ‘কোনো নিয়ম-নীতি ছাড়াই জায়গায় জায়গায় কেজি স্কুল গড়ে উঠছে। ছোট বাচ্চারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব স্কুলে থাকে এবং বাড়তি বই পড়তে হয়। সরকারি নীতিমালা না থাকার কারণে মানহীন কেজি স্কুলগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
ছেংগারচর ব্যবসায়ী কাউছার আবেদীন লিটন জানান, ‘সরকারি স্কুলে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না, বাচ্চারা শুধু খেলাধুলা করে। পড়াশোনা ভালোর জন্য মাসে ৬০০ টাকা বেতন দিয়েও সন্তানকে কেজি স্কুলে পড়াচ্ছেন।’
এক কেজি স্কুলের পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘প্রাথমিক স্কুলের অনেক শিক্ষকের সন্তানও কেজি স্কুলে পড়ে। সরকারি স্কুলে বেতন লাগে না, কিন্তু কেজি স্কুলে মাসে ৫০০–১০০০ টাকা লাগে। তারপরও অভিভাবকরা কেজি স্কুলেই সন্তান পাঠাতে চান। কেন সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী নেই– এর উত্তর তাদের কাছেই আছে।’
মতলব দক্ষিণ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, ‘সরকারি স্কুলে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, খেলাধুলার সরঞ্জামসহ নানা সুবিধা থাকলেও শিক্ষার্থী আসছে না। তিনি মনে করেন, কেজি স্কুলের বৃদ্ধি, অভিভাবকদের অজ্ঞতা এবং তদারকির অভাব ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি শিক্ষার্থী কমার কারণ।’
মতলব উত্তর উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থী বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেজি স্কুল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’