ঢাকা,বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে ফ্রি খাওয়ার অভিযোগ: যা বললেন ছাত্রদল নেতারা

মো. রাসেল হোসাইন

প্রকাশ: ১৮:১৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:১৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাবির বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে ফ্রি খাওয়ার অভিযোগ: যা বললেন ছাত্রদল নেতারা

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ক্যান্টিনে টাকা না দিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ফ্রি খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলেছেন অভিযুক্তরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হলের শিক্ষার্থীদের একটি গ্রুপে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে, বাকি খাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হল ছাত্র সংসদের সহায়তায় একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ক্যান্টিন মালিক মো. তৌহিদ। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিলেন, আমরা ছাত্র মানুষ, সবসময় পকেটে টাকা থাকে না। তাই কোনো সময় টাকা না থাকলে আপনি যদি খাতায় লিখে রাখেন, পরে টাকা হলে পরিশোধ করে দেব। তখন আমি তাদের বলি, আমাদের এখানে খাতা রাখার ব্যবস্থা নেই। টাকা না থাকলে আপনারা খেয়ে যাবেন, সমস্যা নেই। বিলের কথা আপনারা মনে রাখবেন এবং পরে টাকা হলে পরিশোধ করে দেবেন। তাই এখানে ‘ফাও’ খাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘সম্প্রতি হলের ক্যান্টিনে পূর্বপরিচয়ের কারণে ক্যান্টিন মালিকের সম্মতিতে কিছু টাকা বকেয়া ছিল। সঠিক পরিমাণ ২৭০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে একজন শিক্ষার্থীর জন্য এ ধরনের বকেয়া থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ইতোমধ্যে সেই বিলও পরিশোধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এই ঘটনাকে নিয়ে যেভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা বিস্ময়কর। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আমরা বিরোধী দলের রাজনীতি করেছি এবং হল থেকে বিতাড়িত হয়ে বাসা ভাড়াসহ নানা খরচ বহন করেছি। সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে ২৭০ টাকা ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ তোলা হাস্যকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এ ধরনের প্রচারণা যদি রাজনীতির অংশ হয়, তাহলে সেই রাজনীতিতে আমরা পিছিয়েই আছি।’

বিজয় একাত্তর হল সংসদের সদস্য আহনাফ আহমেদ রাফি ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার হল মাঠে প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছি। এ সময় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের তিন সিনিয়র শিক্ষার্থী ক্যান্টিন-১-এর কয়েকজন স্টাফের খারাপ আচরণের অভিযোগ করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ ভাই ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের ডেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো আচরণ করার কথা বলি। এরপর সেদিনই বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘সেদিনের পর থেকে আমি ক্যান্টিন-১-এ যাইনি। এরপর সেখানে কী হয়েছে, কে কী করেছে- এ বিষয়ে আমি অবগত নই। আমার বিরুদ্ধে জিএস ও পাঠকক্ষ সম্পাদক যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি শুধু ক্যান্টিন স্টাফদের আচরণ নিয়ে কথা বলেছি। ওই দুই সিনিয়র শিক্ষার্থীর কোনো বকেয়া বা বিলের বিষয়ে আমি কোনো কথা বলিনি। এ সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিডিও প্রমাণও রয়েছে।’

বিজয় একাত্তর হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য সোলায়মান হোসেন রবি ডেইলি দর্পণকে বলেন, ‘রোববার দুপুরের দিকে শিবিরের একজন কর্মীর ফেসবুক পোস্ট থেকে জানতে পারি, ছাত্রদলের পরিচয়ে হল ক্যান্টিনে বাকি খাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হল সংসদে আলোচনা করার পর স্যাররা সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি মিটিং আয়োজন করেন। সবার সামনে ক্যান্টিন মালিক তৌহিদ ভাই ‘ফাও’ খাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করায় শিবিরের নেতাকর্মীরা তার ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে জানতে পারি, হলের শিবির কর্মীরা তাকে দিয়ে জোর করে এই বক্তব্য আদায় করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সংগঠন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। আজকের ঘটনাটিও একই ধারার পুনরাবৃত্তি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক শিক্ষার্থীরই সংকটকালীন সময় আসে। ক্যান্টিনে অনুরোধ করে ২৭০ টাকা বাকি রেখে দুই দিন খাবার খেয়েছে- এমন বিষয়কে শুধুমাত্র ছাত্রদল করার কারণে তার চরিত্রহননের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করাকে একজন হল সংসদ সদস্য হিসেবে আমি খারাপ দৃষ্টিতে দেখি।’

এ সম্পর্কিত খবর