ঢাকা,বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্কলারভাই’ চালু করলেন ছাত্রদল নেতা

মো. রাসেল হোসাইন

প্রকাশ: ০০:২৪, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এআই প্ল্যাটফর্ম ‘স্কলারভাই’ চালু করলেন ছাত্রদল নেতা

ছবি: ডেইলি দর্পণ

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ খোঁজা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘স্কলারভাই ডটকম’। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামানসহ একদল শিক্ষার্থী এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের দাবি, প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী স্কলারশিপ খোঁজা, আবেদন প্রস্তুত, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ও স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) তৈরিতে এআইভিত্তিক সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ব্যবস্থাপনার সুবিধাও রয়েছে।

তবে প্ল্যাটফর্মটির কার্যকারিতা, সেবার পরিধি, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত নথির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। এসব বিষয়ে জানতে ডেইলি দর্পণের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. রাসেল হোসাইন। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।

 

ডেইলি দর্পণ: ‘স্কলারভাই ডটকম’ তৈরির চিন্তা কীভাবে এলো? এই উদ্যোগের পেছনে মূল অনুপ্রেরণা কী ছিল?

রাহাত জামান: একটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা নয়; বরং তাদের মেধার বিকাশ এবং জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখাও। আমরা লক্ষ করেছি, বাংলাদেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তথ্যের বিচ্ছিন্নতা, জটিল আবেদনপ্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার অভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।

একাধিক স্কলারশিপে আবেদন করতে গেলে প্রতিটির যোগ্যতা ও শর্ত যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, আলাদা আলাদা নথি প্রস্তুত ও সংশোধন, অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আবেদনের সময়সীমা মনে রাখার মতো কাজগুলো বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা তথ্য ও নথি ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও নজর এড়িয়ে যায়। এ ছাড়া, প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ পাওয়া কিংবা একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ সব সময় সহজে মেলে না।

এই বাস্তবতা থেকেই ‘স্কলারভাই ডটকম’ তৈরির চিন্তা আসে। আমাদের লক্ষ্য ছিল পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত করা, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি প্ল্যাটফর্ম থেকেই স্কলারশিপ খোঁজা, নিজের যোগ্যতা যাচাই, আবেদন প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় নথি ব্যবস্থাপনা এবং সময়সীমা অনুসরণের কাজগুলো করতে পারেন। একই সঙ্গে তাঁরা যেন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট এবং সহশিক্ষার্থীদের কমিউনিটির কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান, সেই ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে চেয়েছি।

আমরা চাই, অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজে বের করা, মানসম্মত আবেদন তৈরি এবং নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর মনোযোগ দিতে পারেন। এই লক্ষ্য ও ভাবনা থেকেই ‘স্কলারভাই ডটকম’-এর যাত্রা।

ডেইলি দর্পণ: শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা কেন অনুভব করলেন?

রাহাত জামান: শাবিপ্রবি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় দেশের পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এখানকার একজন ছাত্রনেতা হিসেবে আমি মনে করি, ছাত্ররাজনীতির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। রাজনীতি মানে শুধু স্লোগান ও মিছিল নয়; ছাত্রকল্যাণ এবং নীতিনির্ধারণেও ভূমিকা রাখা।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের সংগ্রাম আমি কাছ থেকে দেখেছি। স্কলারশিপ খোঁজা, আবেদনপ্রক্রিয়া সামলানো, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসব বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং তাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আকাঙ্ক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রয়োজন থেকেই আমরা এই উদ্যোগের দায়বদ্ধতা অনুভব করেছি। মেধার কোনো রাজনৈতিক রং হয় না। শাবিপ্রবির প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা যেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়, সে জন্য কাজ করাকে আমরা নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ বলে মনে করি।

ডেইলি দর্পণ: এই প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে কারা যুক্ত রয়েছেন এবং সেই সদস্যদের কী ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে?

রাহাত জামান: উদ্যোগটি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নীতিনির্ধারণী পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের দলে শাবিপ্রবির সাবেক ও বর্তমান একদল শিক্ষার্থী যুক্ত রয়েছেন, যারা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং একাডেমিক কনসালট্যান্সিতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাজীবীরা প্ল্যাটফর্মটির কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিকগুলো পরিচালনা করছেন।

ডেইলি দর্পণ: বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সাধারণত কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন? এসব সমস্যার সমাধানে ‘স্কলারভাই ডটকম’ কী ভূমিকা রাখতে চায়?

রাহাত জামান: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে প্রধানত তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন- নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব, আবেদনপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত করার জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার ঘাটতি।

বর্তমানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এটি কীভাবে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে, সে বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থীর স্পষ্ট ধারণা নেই। সরাসরি এআই দিয়ে SOP লিখিয়ে জমা দিলে তা অনেক সময় আবেদনকারীর নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও স্বকীয়তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হতে পারে। এতে আবেদনের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এআইকে নিজের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

এই বিষয়টি মাথায় রেখেই ‘স্কলারভাই ডটকম’ এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেখানে এআই শিক্ষার্থীকে দিকনির্দেশনা দেবে এবং তার চিন্তাভাবনা ও লেখার মান উন্নত করতে সহায়তা করবে। তবে শিক্ষার্থীর হয়ে সরাসরি SOP লিখে দেওয়ার পরিবর্তে তাঁর নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

পাশাপাশি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনসংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর শুধু অনলাইন রিসোর্স বা এআই থেকে পাওয়া সম্ভব নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় এমন ব্যক্তিদের পরামর্শ, যারা নিজেরা এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। এ কারণেই প্ল্যাটফর্মটিতে বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট এবং ইতোমধ্যে স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেইলি দর্পণ: ‘স্কলারভাই ডটকম’-এর কোন কোন সেবা শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাবেন? কোনো পেইড সেবা থাকলে তার খরচ কেমন?

রাহাত জামান: আমাদের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও শিক্ষাবান্ধব প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। তাই স্কলারশিপ খোঁজা, উপযুক্ত সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং মৌলিক এআই টুল ব্যবহারের মতো সুবিধাগুলো বিনামূল্যে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে ওয়ান-টু-ওয়ান মেন্টরশিপ ও নথি পর্যালোচনার মতো বিশেষায়িত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি রয়েছে।

এআই ব্যবহারের খরচ, সার্ভার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, টিম পরিচালনা এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো বিভিন্ন খাতে ব্যয় রয়েছে। এসব খরচ বহন করে সেবার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই ফি নির্ধারণ করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি, ফি যেন শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের মধ্যে থাকে।

আমাদের উদ্দেশ্য শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা নয়; বরং সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে সচল রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা।

ডেইলি দর্পণ: একজন শিক্ষার্থী কীভাবে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী উপযুক্ত স্কলারশিপ খুঁজে পাবেন?

রাহাত জামান: ‘স্কলারভাই ডটকম’-এ একজন শিক্ষার্থী নিজের সিভি বা রিজিউমে আপলোড করে প্রোফাইল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি সেখান থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ও অন্যান্য তথ্য শনাক্ত করে প্রোফাইল তৈরিতে সহায়তা করবে। পরে শিক্ষার্থী নিজেই সেই তথ্য যাচাই ও সংশোধন করতে পারবেন।

এরপর শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ভাষাগত দক্ষতা, পছন্দের বিষয়, গন্তব্য দেশ এবং উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য অনুযায়ী স্কলারশিপ খুঁজতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি তাঁর প্রোফাইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্কলারশিপের যোগ্যতা ও শর্ত মিলিয়ে সম্ভাব্য সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।

ফলে অসংখ্য সুযোগের মধ্যে এলোমেলোভাবে খোঁজাখুঁজি না করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রোফাইলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্কলারশিপ বেছে নিয়ে আরও পরিকল্পিতভাবে আবেদন করতে পারবেন।

ডেইলি দর্পণ: প্ল্যাটফর্মে দেওয়া স্কলারশিপের তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং তথ্যগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করার ব্যবস্থা কী?

রাহাত জামান: ‘স্কলারভাই ডটকম’-এ স্কলারশিপের তথ্য নির্ভরযোগ্য রাখা এবং নিয়মিত হালনাগাদ করার জন্য আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া রয়েছে। আমাদের টিম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ পোর্টাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী সেগুলো সাজিয়ে প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে।

তথ্য পরিচালনা ও হালনাগাদের জন্য আমাদের নিজস্ব অ্যাডমিন পোর্টাল রয়েছে। সেখান থেকে টিমের সদস্যরা নিয়মিত তথ্য সংশোধন ও হালনাগাদ করেন।

পাশাপাশি, স্কলারশিপের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও আবেদনের শেষ সময় ব্যবস্থাপনার জন্য সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো স্কলারশিপের তথ্য যুক্ত করা হলে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ব্যবস্থাপনা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী ও টিমের সদস্যদের সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা কাজ করে। এর ফলে তথ্য হালনাগাদ রাখা এবং আবেদনের সময়সীমা অনুসরণের কাজ আরও সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব হয়।

ডেইলি দর্পণ: এআইয়ের মাধ্যমে অধ্যাপকদের ইমেইল, সিভি ও স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) তৈরির ক্ষেত্রে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যাবে? এসব ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

রাহাত জামান: ‘স্কলারভাই ডটকম’-এ আমরা এআইকে শিক্ষার্থীদের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং তাদের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করার সহায়ক উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। সিভি, SOP তৈরি কিংবা অধ্যাপকদের ইমেইল লেখার ক্ষেত্রে আমাদের সিস্টেম শিক্ষার্থীদের প্রোফাইলে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক খসড়া ও কাঠামো তৈরি করে দিতে পারে।

একেবারে শূন্য থেকে লেখা শুরু করার পরিবর্তে একটি প্রাসঙ্গিক খসড়া দিয়ে শুরু করলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা, লক্ষ্য ও আগ্রহ তুলে ধরা সহজ হয়। এরপর তাঁরা নিজের মতো করে লেখাটি সম্পাদনা করতে পারবেন। সম্পাদনার পর সিস্টেম লেখাটির মান মূল্যায়ন এবং কোথায় কীভাবে উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারে।

বিশেষ করে SOP-এর মূল্যায়নব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ইতোমধ্যে স্কলারশিপ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে এটি পরিমার্জন করা হয়েছে।

অধ্যাপকদের ইমেইল করার ক্ষেত্রেও প্ল্যাটফর্মটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া অনুসরণে সহায়তা করবে। কোন অধ্যাপকের গবেষণার আগ্রহ নিজের একাডেমিক লক্ষ্য ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, কীভাবে সেই সংযোগ ইমেইলে তুলে ধরতে হবে এবং কীভাবে সংক্ষিপ্ত, প্রাসঙ্গিক ও পেশাদারভাবে যোগাযোগ করতে হবে- সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

তথ্যের নির্ভুলতা ও আবেদনের মান বজায় রাখতে আমরা এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিই। এআই কখনো ভুল বা ভিত্তিহীন তথ্য দিতে পারে। তাই অধ্যাপকের গবেষণা, প্রকাশনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য কিংবা স্কলারশিপের শর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করা জরুরি।

আমাদের মূল দর্শন হলো, এআই শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা ও প্রস্তুতিকে আরও উন্নত করবে; কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বিচারবোধ ও নিজস্ব প্রচেষ্টার বিকল্প হয়ে উঠবে না।

ডেইলি দর্পণ: শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত সনদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

রাহাত জামান: ‘স্কলারভাই ডটকম’-এ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ নথির নিরাপত্তাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। আমাদের ডেটাবেসের নিরাপত্তা ও তথ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুসরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পুরো প্ল্যাটফর্মটি Google Cloud Platform (GCP) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আলাদা ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, তথ্যের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং অননুমোদিত প্রবেশ প্রতিরোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় তাঁদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলতে পারবেন। অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর তথ্য সিস্টেম থেকে মুছে ফেলার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ডেইলি দর্পণ: প্ল্যাটফর্মটির পরিচালনব্যয় কীভাবে মেটানো হবে?

রাহাত জামান: বর্তমানে ‘স্কলারভাই ডটকম’ পরিচালনার জন্য আমাদের একটি ‘Pay-as-you-go’ মডেল রয়েছে। প্রচলিত সাবস্ক্রিপশন ব্যবস্থা নেই। তবে ৩০ দিনের মেয়াদে নির্দিষ্ট পরিমাণ এআই ক্রেডিট ও অন্যান্য সুবিধাসহ প্যাকেজ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) ব্যবহারের খরচ, প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং টিম পরিচালনার ব্যয় মেটাতে এই মডেলটি আপাতত প্রয়োজনীয়। তবে পরিচালনব্যয় মেটানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ যথাসম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছি।

এ ছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য সেবাগুলো আরও সহজলভ্য করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য সহযোগীদের কাছ থেকে স্পনসরশিপ পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য, বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ওপর ফি-এর চাপ কমানো।

বিজ্ঞাপননির্ভর মডেলে যাওয়ার বিষয়ে আপাতত আমাদের আগ্রহ নেই। আমাদের লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবহারকারীর পরিসর তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট হওয়ায় শুধু বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভর করে প্ল্যাটফর্মের সম্পূর্ণ পরিচালনব্যয় বহন করা বাস্তবসম্মত নয়। ভবিষ্যতেও আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে এমন একটি টেকসই পরিচালন মডেল গড়ে তোলা, যা প্ল্যাটফর্মের মান বজায় রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেবে।

ডেইলি দর্পণ: আগামী এক বছরে কতজন শিক্ষার্থীকে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহায়তা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন?

রাহাত জামান: আমরা ‘স্কলারভাই ডটকম’-কে শুরু থেকেই এমনভাবে তৈরি করেছি, যেন ভবিষ্যতে যত বেশি সম্ভব শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া যায়। এ লক্ষ্যেই গুগল ক্লাউড প্লাটফর্ম-এর সার্ভারলেস আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেও প্ল্যাটফর্মটি প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

আগামী এক বছরে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যার মধ্যে নিজেদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। বরং আমরা চাই, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এমন বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন ‘স্কলারভাই ডটকম’ ব্যবহারের সুযোগ পান এবং তাদের প্রস্তুতির যাত্রায় প্ল্যাটফর্মটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আমাদের সাফল্য পরিমাপের প্রধান মানদণ্ড হবে, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার পথ কতটা সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে পেরেছি। পাশাপাশি, কতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেন, তারা সেবাগুলো নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট এবং তাঁদের আবেদন প্রস্তুতি ও স্কলারশিপ খোঁজার প্রক্রিয়ায় এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।

আমাদের কাছে শুধু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোই সাফল্য নয়; বরং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারাই হবে ‘স্কলারভাই ডটকম’-এর সার্থকতা।

এ সম্পর্কিত খবর