নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:৩৫, ৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৭, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: এআই
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। শীতের আগমনী বার্তা শুরু হলেও সবজির দামে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বাজারে অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে আরও ১০ টাকা। চড়া রয়েছে মাছ ও মাংসের দামও। সব মিলিয়ে বাড়তি বাজার খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি
রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা, দেশি শসা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং কাকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া ঢেঁড়স, পটল, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও ঝিঙা ৮০ টাকা, বরবটি ৯০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। শীতের আগমনী বার্তায় বাজারে জলপাই উঠলেও দামেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি জলপাই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। কাঁচামরিচের দামও রয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।
বাজার খরচ নিয়ে চাপে ক্রেতারা
বাজার করতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দিন যাচ্ছে আর সবজি, মাছ-মাংসের দাম বাড়ছে। এখন প্রতি মাসের হিসাব মেলানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে শুধু টিউশনি করে সব সামলে নিতাম, কিন্তু এখন বাড়ি থেকেও টাকা আনতে হয়।’
সবজি বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‘আমরা তো চাই কম দামে সবকিছু বিক্রি করতে। আমাদেরও তো বাঁচতে হবে। যেভাবে কিনি, সেভাবেই বিক্রি করি। সবকিছুর দামই বাড়তি। সামনে শীত আসছে, হয়তো তখন কিছুটা কমতে পারে।’
বাড়তি দামে ডিম, চড়া মাংসের বাজার
মঙ্গলবারের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং কক মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ডজনপ্রতি লাল ডিম ১৬০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ টাকা। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। ফলে চারটি ডিম কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা।
ডিম বিক্রেতা আসাদ বলেন, ‘আমরা জানি না ডিমের দাম কেন বেশি। বেশি দামে কিনি, বেশি দামেই বিক্রি করি। সবকিছুর দাম বাড়ছে, তাই হয়তো ডিমের দামও বাড়ছে।’
মাছের বাজারেও নেই স্বস্তি
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। আকার ও ওজনভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা কেজি। রুই মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, কাতল ৩৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, কাঁচকি ৫০০ টাকা এবং কৈ ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ কিনতে আসা আলাউদ্দিন বলেন, “আগে ব্যাগ ভরে মাছ কিনতাম, এখন মাছ কিনতে গেলে হিসাব করে কিনতে হয়। শুধু মাছ নয়, সবকিছুর দামই বাড়তি। এখন হিসাব করে বাজার করতে হয়।”
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি চাপ
সবজি, ডিম, মাছ ও মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের বাড়তি দামে রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজার খরচ বেড়েছে। ক্রেতাদের মতে, আয় বাড়ার তুলনায় নিত্যপণ্যের দাম বেশি থাকায় সংসারের ব্যয় সামলাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।