ঢাকা,বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১ আশ্বিন ১৪৩৩

যেকোনো মুহূর্তে আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

মো. রাসেল হোসাইন

প্রকাশ: ২২:৪৬, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৪:১৪, ২৭ আগস্ট ২০২৬

যেকোনো মুহূর্তে আসছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় যারা

ছবি: ডেইলি দর্পণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে চলছে চূড়ান্ত আলোচনা। আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিন সংগঠনে সক্রিয় নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়েই নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি ২০২৪ সালের ১ মার্চ গঠিত হয়েছিল। এ কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। চলতি বছরের ১ মার্চ কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলীয় অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। নতুন কমিটির সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম এখন আলোচনায় রয়েছে।

যাদের নাম আলোচনায়

দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে তারা হলেন- আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, খোরশেদ আলম সোহেল, ইজাজুল কবির রুয়েল, আমান উল্লাহ আমান, শাফি আহমেদ, ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, মমিনুল ইসলাম জিসান, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, রাজু আহমেদ, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।

আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া

বর্তমানে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়াহইয়া এর আগে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

দলীয় সূত্রের দাবি, আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। ২০২২ সালের ২৪ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় গুরুতর আহত হন। মাথায় ১৭টি সেলাই লাগে এবং পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়।

২০২৩ সালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গাবতলী থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। ২৮ অক্টোবর-পরবর্তী হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও পশ্চিম ছাত্রদলের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শাহবাগ, বাংলামোটর, সায়েন্সল্যাব, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলন সমন্বয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি নিয়ে কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

খোরশেদ আলম সোহেল

বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ইজাজুল কবির রুয়েল

বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী রুয়েল এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন।

২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা দলীয় নেতারা উল্লেখ করছেন।

আমান উল্লাহ আমান

বর্তমানে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী আমান এর আগে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

২৮ অক্টোবর-পরবর্তী আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে দুই মাস কারাগারে ছিলেন। রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হওয়ার দাবিও রয়েছে তার। ৫ আগস্টের পর রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠনকে সক্রিয় করতে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করেন।

ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল

বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আওয়াল এর আগে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

তিনি বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের পরিচিত মুখ। ২৮ অক্টোবরের পর হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে প্রায় প্রতিদিন ঢাকার রাজপথে মিছিলে অংশ নেন।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল।

শরীফ প্রধান শুভ

বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদক পদমর্যাদায় প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শরীফ এর আগে সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

২০১১ সালের ২৪ মার্চ ছাত্রলীগের হামলায় তার হাত ভেঙে দেওয়া হয়। একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ছয় মাস কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় ছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে বিএনপির সারাদেশব্যাপী চলমান হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৩ ডিসেম্বরে ধানমন্ডিতে অবরোধের সমর্থনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে তিনি গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর ধানমন্ডি থানায় রিমান্ডে থাকাকালে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। পরবর্তীতে কাশীমপুর-৪ হাই-সিকিউরিটি কারাগারে টানা তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান।

মমিনুল ইসলাম জিসান

বর্তমানে এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

দলীয় নেতাদের কাছে আন্দোলন-সংগ্রামের পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত জিসান একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন মামলা ও হামলার মুখোমুখি হন। ২০২৩ সালে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত

বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী বাসেত এর আগে যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

২০২৩ সালের জুনে নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ ও চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেলের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা রাখেন।

গণেশ চন্দ্র রায় সাহস

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। দলীয় সূত্রের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্র ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি নিয়মিত ভূমিকা পালন করেছেন।

যা বলছেন পদপ্রত্যাশীরা

পদপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতারা বলছেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাদের ভাষ্য, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যাকে যে দায়িত্ব দেবেন, সেটিই সবাই মেনে নেবেন।

ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল ডেইলি দর্পণকে বলেন, কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমাদের ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যখন উপযুক্ত সময় বলে বিবেচনা করবেন, তখনই কমিটি হবে। আমরা ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তার নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল।

তিনি বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করে ছাত্রদলকে বিজয়ী করার জন্য গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বকেই প্রাধান্য দেবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বেগম খালেদা জিয়ার মতো তিনিও সবসময় গুণগত (কোয়ালিটিফুল) ছাত্রদলকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে টানা চারটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন সাংগঠনিক অভিভাবক জনাব তারেক রহমান। নেতৃত্ব দলের পক্ষ থেকে একটি পবিত্র আমানত। নেতৃত্বের জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বা অন্য যাকেই যোগ্য মনে করবেন, তাঁকে সবাই সহযোগিতা করবে।

ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল বলেন, রাজনীতিবিমুখ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সবাইকে রাজনীতি করতে হবে- এমন কোনো বিষয় নেই। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার অধিকার আদায়ে সচেতন থাকতে হবে। আর জেন-জি যে ধরনের ছাত্ররাজনীতি প্রত্যাশা করে, সেই বিষয়টিও আমাদের অগ্রাধিকারে থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল ডেইলি দর্পণকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একটি প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি গঠন একটি ধারাবাহিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। আমাদের মধ্যে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সার্বিক নির্দেশনায় ছাত্রদল একটি গুণগত, আদর্শভিত্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি সংগঠনের জন্য যাদের সবচেয়ে যোগ্য মনে করবেন, তাদেরই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বের দায়িত্ব দেবেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সকল নেতাকর্মী তার সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল।

তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা, সততা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল নেতাদের বিবেচনায় রাখবেন।

আমি মনে করি, আগামীর ছাত্রনেতৃত্বকে অবশ্যই ইতিবাচক, উন্নয়ন- উৎপাদন ও গণতন্ত্রমুখী ছাত্র রাজনীতি করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনগুলোকে শতভাগ শিক্ষার্থীবান্ধব ও শিক্ষাবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই ছাত্ররাজনীতি করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা, বিশেষ করে আমি, আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছি। বহুবার কারাবরণ করেছি। বহুবার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। বহুবার রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও নিগ্রহের শিকার হয়েছি। মোটকথা, ছাত্ররাজনীতিতে যত ধরনের প্রতিকূল অভিজ্ঞতা থাকতে পারে, তার প্রায় সবকটির মধ্য দিয়েই আমি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি।

দল যদি আমাকে নেতৃত্বের জন্য বিবেচনা করে, তাহলে শিক্ষার্থীবান্ধব, গণরুম ও গেস্টরুমমুক্ত এবং ক্যারিয়ারমুখী ছাত্ররাজনীতি উপহার দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমার বিশ্বাস, আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি, সেই অভিজ্ঞতার আলোকে, বিশেষ করে আমার হাতে যদি সংগঠনের দায়িত্ব অর্পিত হয়, তাহলে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্বে আসবে, তারা প্রত্যেকেই আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী হয়ে গড়ে উঠবে।

ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান ডেইলি দর্পণকে বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। ইতোমধ্যে এই কমিটির দুই বছরের মেয়াদ অতিক্রম করেছে। নতুন কমিটির জন্য সারা বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৃণমূলের নেতাকর্মী এবং সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। আশা করি, শিগগিরই ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে এবং দেশ গড়ার লক্ষ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম এমন নেতাদেরই হাইকমান্ড নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের সব ভালোবাসা-ভালো লাগা এই ছাত্রদলকে ঘিরেই। জীবনের সব ত্যাগ-তিতিক্ষা, সংগ্রাম ও আন্দোলনে আমি নিজেকে উজাড় করে সংগঠনের জন্য নিবেদন করেছি। আমার প্রচেষ্টা, আন্দোলন-সংগ্রাম, লড়াই, কর্মীদের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ, দেশপ্রেম, দলের প্রতি কমিটমেন্ট, জেল-জুলুম, গুম এবং বিগত তিনটি কমিটিতে আমাকে যেভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আমার ভূমিকা- এসব বিষয়কে সংগঠন যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই প্রত্যাশা শুধু আমার নয়, তৃণমূলেরও। আমি তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা একজন কর্মী। ওয়ার্ড ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আমার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। আমি তৃণমূলের কণ্ঠস্বর হয়ে বলতে চাই, তৃণমূলের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করতে চাই এবং তাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, এবার শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মূল্যায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় আমাদের ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত বিপর্যস্ত ছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা, দূরদর্শিতার অভাব এবং কর্মীদের প্রতি দায়িত্ববোধের ঘাটতির কারণে আজও তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী সাংগঠনিক পদ, অধিকার এবং প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত। এই জায়গাগুলোতে কাজ করার বিশাল সুযোগ রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব যদি এসব বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করে, তাহলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং সারা বাংলাদেশে ছাত্রদলকে ঐক্যবদ্ধ করে গণজাগরণ সৃষ্টি করা যাবে। আমি নিজেকে সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তুত করেছি।

‘শিক্ষার্থীদের জন্যই ছাত্রদল, আর শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ছাত্রদলের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। তাদের স্বার্থ, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি, সুনাগরিক গড়ে তোলা এবং সৎ, দক্ষ, ত্যাগী, পরোপকারী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরাই হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ছাত্রদলের অঙ্গীকার। একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন সমাজ গঠনে ছাত্রদল সব সময় সামনের সারি থেকে ভূমিকা রাখবে।’

পদপ্রত্যাশী নেতাদের মতে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাদের ভাষ্য, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি যাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করবেন, সংগঠনের সবাই সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।

এ সম্পর্কিত খবর