ঢাকা,বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১ আশ্বিন ১৪৩৩

নতুন কমিটি নিয়ে টানাপোড়েন, ছাত্রদলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

মো. রাসেল হোসাইন

প্রকাশ: ১৮:৪০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন কমিটি নিয়ে টানাপোড়েন, ছাত্রদলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

ছবি: ডেইলি দর্পণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের ১ মার্চ। এরপর কেটে গেছে বেশ কিছু সময়। নতুন কমিটি নিয়ে নানা আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকা সামনে এলেও এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা। নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় থাকা সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে- কেন আটকে আছে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আর এর নেপথ্যেই বা কী?

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অনুপ্রবেশ ঠেকানো’ এবং পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাইকে এই বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হলেও, সংশ্লিষ্টদের দাবি- এর পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, বলয়ভিত্তিক রাজনীতি ও সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক জটিলতা। এমনটাই জানা গেছে একাধিক সূত্রে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের একাধিক নেতা গণমাধ্যমকে জানান, নতুন কমিটি গঠনে বিলম্বের অন্যতম কারণ অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ও সিন্ডিকেট রাজনীতি। সংগঠনের পদপ্রত্যাশী নেতাদের পেছনে সাবেক ও বর্তমান একাধিক প্রভাবশালী নেতা কলকাঠি নাড়ছেন। মূলত তাদের পছন্দের প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোকে কেন্দ্র করেই টানাপোড়েন ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের দাবি, ছাত্রদলের ভেতরে বর্তমানে কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুল, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাবেক সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের অনুসারীদের পৃথক কয়েকটি বলয় বা গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।

তবে এসব সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা পদপ্রত্যাশীরা হলেন- সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে তারা হলেন- আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, খোরশেদ আলম সোহেল, শাফি আহমেদ, ডা. তৌহিদুর রহমান আওয়াল, মমিনুল ইসলাম জিসান, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, রাজু আহমেদ, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।

এর আগে বিএনপি সূত্রে জানানো হয়েছিল, সাবেক ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পদপ্রত্যাশীদের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং এবং প্রভাবশালী প্রার্থীদের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন জটিলতার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাড়তি সময় লাগছে বলে জানা গেছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। গত ১৩ আগস্ট বিদায়ী শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তারেক রহমান ছাত্রদলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব বের করে আনার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে বিদায়ী নেতৃত্বকে মূল দলে মূল্যায়নের আশ্বাসও দেন তিনি।

এদিকে, নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী নেতারা চূড়ান্ত অনুমোদনের আশায় নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয়কেন্দ্রিক জোর লবিং ও দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রেখেছেন। তবে কবে নাগাদ নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত খবর