নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ২১:১২, ১৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২১:১৩, ১৯ জুন ২০২৬
ছবি: ডেইলি দর্পণ
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ৮ মাস বয়সী এক শিশুকে জীবিত অবস্থায় কবর দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে উপজেলার দুল্লা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে একটি মাটির ঢিবির সংলগ্ন স্থানে গর্ত খোঁড়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ উঠেছে, শিশু সৌরভের মা শাহনাজ আক্তার পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে কবর দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই গর্ত খুঁড়েছিলেন। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার রাতভর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলে। প্রতিবেশীরা রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, দাম্পত্য কলহ হলেই শিশু সৌরভ নির্যাতনের শিকার হতো। ৫-৭ বছর আগেও শাহনাজ স্বামীকে রেখে অন্য এক যুবকের সঙ্গে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। পরে তিনি আবার হারুনের সংসারে ফিরে আসেন।
প্রতিবেশী শাবনুর আক্তার বলেন, ‘সৌরভ ছোটবেলা থেকেই মায়ের অবহেলার শিকার। শিশুকালে তাকে ঠিকমতো দুধও খাওয়ানো হতো না। অনেক সময় পানি খাইয়ে রাখা হতো। বিভিন্ন সময় শিশুটিকে মারধর ও ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বাবা সবসময় তাকে রক্ষা করার চেষ্টা করতেন।’
শিশুটির বাবা হারুন মিয়া জানান, ‘আমার স্ত্রী প্রায়ই বলত, সে সন্তান লালন-পালন করবে না। সামান্য বিষয়েও ছেলের ওপর নির্যাতন চালাত। আজকের ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।’
সৌরভের দাদা আলাল উদ্দিন বলেন, ‘এর আগেও শিশুটিকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন এলাকাবাসী গিয়ে বাধা দেয়। আজকের খবর শুনে ছুটে এসে দেখি, আমার নাতি সৌরভকে জীবিত কবর দেওয়ার জন্য গর্ত খুঁড়েছে।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য জবেদা খাতুন জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ দেখা দিত। শাহনাজ আক্তার পেশায় বিড়ি তৈরির কারিগর। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে স্থায়ীভাবে না গিয়ে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। পরবর্তীতে সেখানেই জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করেন।
শাহনাজ আক্তারের মা শাহিদা আক্তার বলেন, ‘তার মেয়ে শিশুটিকে দত্তক দিতে চেয়েছিল। সে মনে করত, সন্তান লালন-পালন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সৌরভের বড় বোনকেও আমরা লালন-পালন করেছি।’
এদিকে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করেন শাহনাজ আক্তার। পরে স্থানীয়দের চাপে তিনি বলেন, ‘আমি ছেলেকে কবর দিতে চাইনি। সকালে রাগের মাথায় গর্ত খুঁড়েছিলাম। সন্তানদের প্রতি অবহেলার অভিযোগও সত্য নয়। তারা দাদির কাছেই বেশি সময় থাকত।’
মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি দুঃখজনক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।