নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৭:০৫, ১৯ জুন ২০২৬
ছবি: ডেইলি দর্পণ
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্ধিত কমিটিতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করা সেই আহসান উল্লাহ নয়ন। আহসান উল্লাহ জেলার সদর উপজেলার ভাবখালী ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট বর্ধিত কমিটি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, গত ২ মে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন সংগঠনের ত্যাগী কর্মী আহসান উল্লাহ (নয়ন)। তিনি বলেন, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশ রইলাম। ৫ আগস্টের পরের লোক এনে আপনারা কমিটিতে বসিয়েছেন। আমরা এত দিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল করে কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা বর্তমানে যেটা করলেন, এটা আপনাদের করা উচিত হয়নি।’
আহসান উল্লাহ আরও বলেন, ‘আমার কাছে প্রমাণ আছে, আমার কাছ থেকে নিয়ে যান। আওয়ামী লীগের সঙ্গে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দিয়েছেন। আর আমরা জীবন-যৌবন সব ধ্বংস করে ফেলেছি এই ছাত্রদলের জন্য। আপনারা আমাদেরকে রাখেননি। আপনাদের এই বিচার, এই প্রেক্ষাপট- আজ থেকে ছেড়ে দিলাম ছাত্রদল। ছাত্রদল করতে গিয়ে আমরা জীবনের সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। ছাত্রদল করায় নিজের হয়ে যাওয়া নৌবাহিনীর চাকরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি সিল মারা হয়েছে। আমরা সবকিছু ছেড়ে এই স্বৈরাচারের পতন ঘটালাম, আর আপনারা ৫ আগস্টের পরের লোক দিয়ে কমিটি করলেন। আপনাদের ব্রেইনে কী আছে? আপনারা কী চান? একটা ত্যাগী লোক রাখলেন না, কোনো কারণেই রাখলেন না।’
নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। একবার হোঁচট খেয়ে দ্বিতীয়বার উঠে দাঁড়ানো শিখিয়েছেন আমার পিতৃতুল্য অভিভাবক ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার। তিনি বলেছিলেন, রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই- পড়ে গেছো, উঠে দাঁড়াও। ঠিক সেই দিনের মতো, যেদিন আমি পদবঞ্চিত হয়েছিলাম, সেদিনও তিনি আমাকে বলেছিলেন, শেষ বলতে কিছু নেই, উঠে দাঁড়াও। আজ আমি দেশনায়ক তারেক রহমান ও আমার অভিভাবক রোকনুজ্জামান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিন্দাবাদ।’
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, ‘আগের কমিটি ঘোষণার পর বঞ্চিত হওয়া কর্মীদের তালিকা করে ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির আবেদন করেছিলাম। ওই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে আমাদের দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছি।’