ডেইলিদর্পণ ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:৫৫, ২৯ আগস্ট ২০২৬
ছবি: ডেইলি দর্পণ
বিশ্বের বৃহত্তম মোটরসাইকেল ও স্কুটার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হিরো বাংলাদেশে তাদের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করেছে। দেশে ১২ বছরের উপস্থিতি ও অগ্রগতির এই বিশেষ মুহূর্তে হিরো মোটোকর্প লিমিটেড এবং নিলয় মোটরস লিমিটেডের যৌথ যাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল হিরো মোটোকর্প লিমিটেড ও নিলয় মোটরস লিমিটেড বাংলাদেশে একসঙ্গে যাত্রা শুরু করে। গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের আস্থা ও ভালোবাসায় হিরো মোটরসাইকেল বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলেছে।
বাংলাদেশে হিরো মোটোকর্পের অফিসিয়াল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্যোগে যশোর প্ল্যান্টে এই উদযাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, প্ল্যান্টের নির্বাহী সদস্য, কর্মচারী এবং হিরো পরিবারের সদস্যরা।
বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে ১২ বছরের সফল ও ধারাবাহিক যাত্রায় হিরো ইতোমধ্যে একটি সুদৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে। উন্নত প্রযুক্তি, মানসম্মত পণ্য, গ্রাহকসেবা এবং নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করেছে দেশের ১০ লাখেরও বেশি গ্রাহকের আস্থা ও সন্তুষ্টি।
বাংলাদেশে হিরোর উৎপাদন সক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন এইচএনবিএল প্ল্যান্ট। এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ টু-হুইলার উৎপাদন কারখানা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বার্ষিক ১.৫ লাখেরও বেশি ইউনিট উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন এই প্ল্যান্ট বাংলাদেশের মোটরসাইকেল শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও হিরো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এইচএনবিএল প্ল্যান্টটি একটি স্বীকৃত “গ্রিন প্ল্যান্ট” হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করছে। সৌরশক্তির ব্যবহার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে এখানে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এইচএনবিএল প্ল্যান্ট শুধু মোটরসাইকেল উৎপাদনের একটি কেন্দ্র নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে প্ল্যান্টটির কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫,০০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত রয়েছেন। এর মাধ্যমে হিরো বাংলাদেশের মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রেখে চলেছে।
১২ বছরের এই পথচলায় গ্রাহকের আস্থা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নের সমন্বয়ে হিরো বাংলাদেশে তার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্নত প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্যতা ও আধুনিক ডিজাইনের মোটরসাইকেল নিয়ে আসার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে হিরো।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিটল নিলয় গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ বলেন, এই ১২ বছরের যাত্রায় আমাদের প্ল্যান্টের অসাধারণ সাফল্য এসেছে পুরো টিমের নিরলস অবদান এবং প্রতিটি ব্যক্তির প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, অ্যাসেম্বলি লাইন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ছোট ছোট উন্নতিই বড় সাফল্য তৈরি করে। বাজারে নেতৃত্বের অবস্থান অর্জনে এই প্ল্যান্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এক্সট্রিম সিরিজ, নতুন স্প্লেন্ডর মডেল এবং জুম সিরিজসহ আমাদের নতুন মডেলগুলো প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে। সবশেষে, আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের মানুষ। এখানে কর্মরত প্রত্যেকেই হিরো পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।"
অনুষ্ঠানে হিরো মোটোকর্প লিমিটেড এবংএইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানের অর্জন, বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তাদের মধ্যে ছিলেন, ভি কে মহাজন- হেড অব প্ল্যান্ট, এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেড, বিজয় কুমার মন্ডল- চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, এইচএমসিএল নিলয় বাংলাদেশ লিমিটেড, প্রবীর কুমার সাহা- বিজনেস হেড – এশিয়া, হিরো মটোকর্প লিমিটেড, পরাগ আগরওয়াল- হেড অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং, গ্লোবাল বিজনেস, হিরো মটোকর্প লিমিটেড, আব্দুল মুসাব্বির আহমেদ- ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নিটোল নিলয় গ্রুপ।
শক্তিশালী নতুন পণ্যের পরিকল্পনা, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে হিরো বাংলাদেশের টু-হুইলার শিল্পে নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে প্রস্তুত।
আগামী দিনগুলোতে হিরো বাংলাদেশের মানুষের চলাচল ও জীবনযাত্রায় আরও বড় ভূমিকা রাখবে এবং দেশের দুই চাকার যানবাহন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদী।