ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩

কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের সভাপতির অনুসারীদের বিরুদ্ধে

ডেইলিদর্পণ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০:০০, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০১:০০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের সভাপতির অনুসারীদের বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে তার কক্ষের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়েছে। 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকি জানিয়েছেন, বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কর্মীরা মব সৃষ্টি করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

অধ্যাপক কাজী আহমেদকে মারধর করার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কাজী আহমেদ নিজের কক্ষে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করছেন। এ সময় ৮-৯ লোক তার কক্ষে ঢোকেন। তারা কাজী আহমেদকে চেয়ার থেকে টেনে উঠিয়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন।

আইইডিসিআর সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা। তাদের কাজ হলো দেশে রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, গবেষণা, সতর্কবার্তা দেওয়া ইত্যাদি। আইইডিসিআর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মতো সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে।

বিএনপি সরকার আসার পর আইইডিসিআরের সর্বোচ্চ পদ, অর্থাৎ পরিচালক পদে অধ্যাপক কাজী আহমেদকে নিয়োগ দেয়। তিনি একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি হামের টিকার কার্যকারিতা নিয়ে তিনি গবেষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওর (কাজী আহমেদ) ও তো কিছু দোষ আছে।’

কী দোষ জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, এই সরকারের সময় কাজী আহমেদ কি করে মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরার সঙ্গে তার (কাজী আহমেদ) নিজের অফিসে বৈঠক করে?

জনস্বাস্থ্যবিদ মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর; রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক ছিলেন। তিনি করোনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং করে বেশ পরিচিতি পান। পরে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান।

কাজী আহমেদকে মারধরের সময় তার কক্ষে উপস্থিত থাকা একজন জনস্বাস্থ্যবিদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা মারধর করেছেন, তাদের তিনি আগে কখনো আইইডিসিআরে দেখেননি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, আইইডিসিআরে নিজের কক্ষে পরিচালককে মারধর অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এ ঘটনার তদন্ত হতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে।

এ বিষয়ে কাজী আহমেদ জাকি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি অফিসিয়ালি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ 

উল্লেখ্য, হামলাকারীরা ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এ সম্পর্কিত খবর