তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:১৬, ১৩ জুলাই ২০২৬
ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যান। ছবি: এআই
গোপন বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপলের করা মামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে প্রযুক্তি বিশ্ব। মামলার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়িতে জড়িয়েছেন টেসলা ও এক্সের মালিক ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান। তাদের এই বাকযুদ্ধ ঘিরে প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এআই কোম্পানি ওপেনএআইয়ের বিবর্তন ও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শীর্ষ প্রযুক্তি কর্তার নিজেদের দীর্ঘদিনের পুরানো বৈরিতাই এসব নতুন পোস্টের মাধ্যমে আবারও সামনে এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
মাস্ক-অল্টম্যানের গল্প বেশ পুরানো। ২০১৫ সালে মাস্ক ও অল্টম্যান একদল বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে অলাভজনক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণা ল্যাব হিসেবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালে কোম্পানিটিতে কোটি কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার পর ওপেনএআইয়ের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন মাস্ক।
এর কিছুদিন পরেই অল্টম্যানের নেতৃত্বে ওপেনএআই লাভজনক অঙ্গসংগঠনের ‘অস্বচ্ছ জাল’ তৈরি করছে– এমন অভিযোগ এনে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন মাস্ক।
এ বছরই সেই বহুল আলোচিত মামলার বিচার হয়েছে, যেখানে জুরি বোর্ড অল্টম্যানের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তবে মাস্ক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
প্রযুক্তিবিশ্বের দুই শীর্ষ প্রধান মাস্ক ও অল্টম্যানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ঠান্ডা যুদ্ধ এবার রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়িতে।
এ সপ্তাহে স্পেসএক্স তাদের নতুন জেনারেটিভ এআই মডেল ‘গ্রক ৪.৫’ এবং ওপেনএআই তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ বাজারে চালুর পর থেকেই এ উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। দুই প্রধানই নিজ নিজ মডেলের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে আসছিলেন। তবে শনিবার তা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে যায়।
এর আগে, অ্যাপল ও ওপেনএআই উভয় কোম্পানির বিরুদ্ধেই বাজারে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের অভিযোগ এনে মামলা ঠুকেছিলেন মাস্ক। তার দাবি, অ্যাপ স্টোরের র্যাংকিংয়ে অন্যান্য এআই চ্যাটবট ও ইমেজ জেনারেটরের চেয়ে তার ‘গ্রক’কে ইচ্ছাকৃতভাবে পেছনে ফেলে রাখা হয়েছে।
গোপন বাণিজ্যিক তথ্য চুরির অভিযোগে শুক্রবার ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপল মামলা করার পর সেই সংক্রান্ত এক এক্স পোস্টের নিচে মাস্ক মন্তব্য করেছেন, ‘স্ক্যাম অল্টম্যান আবারও তার কারসাজি দেখাল...।’
অল্টম্যানকে খোঁচা দিতে মাস্ক গেল এক বছর ধরেই ‘স্ক্যাম অল্টম্যান’ বা প্রতারক অল্টম্যান নামটি ব্যবহার করে আসছেন। এর কয়েক মিনিট পরেই মাস্ক আবারও লেখেন, ‘সে প্রতারণাকে একদম অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
এরপর অল্টম্যানের একটি ছবি পোস্ট করে মাস্ক ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেছেন, ‘ও হয়ত এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা যে কোনো মানুষের চেয়ে প্রতারণা করতে বেশি ভালোবাসে!’
মাস্কের একের পর এক আক্রমণ এড়ায়নি অল্টম্যানের নজরও। এক্স প্ল্যাটফর্মে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ভিউ হওয়া এক পোস্টে পাল্টা জবাবে অল্টম্যান লিখেছেন, ‘আপনি নিজেই তো শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে মহাকাশে শর্ট-টার্ম ডেটা সেন্টার বিক্রির ফাঁদ পাতছেন।’
ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন মাস্কও। ওই পোস্টের জবাবে তিনি লিখেছেন, ‘আগামী বছর থেকেই আমরা এগুলো মহাকাশে ওড়ানো শুরু করব। আপনার প্যারোল অফিসার যদি অনুমতি দেন তবে আপনিও এসে দেখে যেতে পারেন।’
একইসঙ্গে মাস্কের এ হঠাৎ খেপে যাওয়ার পেছনে ওপেনএআইয়ের নতুন মডেলের সাফল্যকে কারণ হিসেবে দেখছেন অল্টম্যান।
তবে সার্বিক তথ্য চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ‘অন্য কোনো কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপন নথির প্রতি আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।’